নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একটি মহল দাবি করছে বিএনপি দুর্নীতিতে জড়িত ছিল। অথচ ২০০১ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে সেই দলটির দুজন মন্ত্রী সরকারের অংশ ছিলেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি তখন দুর্নীতি হয়ে থাকে, তাহলে তারা কেন পদত্যাগ করে সরকার ছেড়ে যাননি। কারণ তারা জানতেন, খালেদা জিয়া কখনোই দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেননি—এ বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃত। যারা আজ এসব অভিযোগ তুলছেন, তারা মূলত নিজেদের বিরুদ্ধেই কথা বলছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস ময়দানে আয়োজিত এক জনসভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছে। এই অধিকার প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী দেশ পরিচালিত হয়। ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার ছাড়া জনগণের সমস্যার কথা শোনার কেউ থাকে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যা থাকলেও তার সমাধান হয়নি। কারণ জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ছিল না। তথাকথিত নির্বাচন হওয়ায় জনগণের কথা শোনার মতো প্রতিনিধিও ছিল না।
তিনি আরও বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে পিছনে রেখে কোনোভাবেই এগোনো সম্ভব নয়। এ জন্য পরিবারিক সমস্যার লাঘবে ফ্যামিলি কার্ড চালুর কথা উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সার ও কীটনাশক সরবরাহের পরিকল্পনার কথা জানান, যাতে কৃষকরা ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হতে পারেন।
বিএনপি ক্ষমতায় এলে খাল খননসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এসব কাজে তিনি জনগণের সঙ্গেই থাকবেন। জনসভায় তিনি সংক্ষেপে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে সম্ভাব্য কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন।
এ সময় চার জেলার ধানের শীষ প্রতীকের ২৪ জন প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, তাদের নির্বাচিত করা হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ভোটারদের ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ভোটের আগের রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে ধানের শীষের বিজয়ের জন্য দোয়া করতে হবে। ভোটের দিন সকালে সবাই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন। অন্য ধর্মের ভোটারদেরও সকালেই কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ভোট দিয়ে চলে না গিয়ে কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার কথাও বলেন, যাতে কেউ ভোট লুট করতে না পারে।
এই নির্বাচনি জনসভায় তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। সভায় বিএনপির মনোনীত সংসদ প্রার্থীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন ও নির্বাচনি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তারা তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা জনগণের সামনে তুলে ধরেন এবং ময়মনসিংহবাসীর ব্যাপক সাড়া পাওয়ার কথা জানান।
সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও জাতীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব রুকনুজ্জামান সরকার ও ময়মনসিংহ উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন।
বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে জনসভাটি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।