নিজস্ব প্রতিবেদক
নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, অতীতের বহু নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনী পরিবেশ অনেক বেশি ইতিবাচক ও সুশৃঙ্খল। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নানা শঙ্কা থাকলেও নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টিতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচারণা চলছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসাররা কোনোভাবেই পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারবেন না। তাদের দায়িত্ব হবে কেবল ভোটারদের অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা। সরকারি কর্মকর্তাদের কেউ অন্য কোনো প্রচারণায় যুক্ত হলে সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে চাননি, তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন—একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে।
নির্বাচনী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই সঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে রিটার্নিং এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসাররা কোনো পক্ষ নিতে পারবেন না। আইন অনুযায়ী তারা শুধু জনগণকে ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করতে পারবেন। কোনো দলের বা পক্ষের হয়ে প্রচারণায় অংশ নেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি।
নির্বাচনী মাঠে সহিংসতা বা প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করলেও কমিশনের কাছে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক নয়। গণমাধ্যমে পাওয়া তথ্য ও মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী পরিবেশ সন্তোষজনক রয়েছে। ছোট-বড় সব দল কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং তাদের পরামর্শ অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ, আনসার ও বিএনসিসি মোতায়েন করা হয়েছে।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনার জানান, ৮ জানুয়ারি থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যাপক অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময়ে ১২৮টি নির্বাচনী এলাকায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের ১৪৪টি ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৯৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মোট ৯ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় আচরণবিধি মেনে চলার অঙ্গীকারনামা দিয়েছেন, যার ফলে নির্বাচনী মাঠ আগের তুলনায় অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত ও পরিচ্ছন্ন রয়েছে। অতীতে এমন পরিস্থিতি দেখা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভোটের ফলাফল ঘোষণার বিষয়ে তিনি জানান, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়ায় ফল পেতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে অধিকাংশ কেন্দ্রের ফলাফল মধ্যরাত বা শেষ রাতের মধ্যেই জানা যাবে।
ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাঠপর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কতগুলো কেন্দ্রে স্থানীয় উদ্যোগে সিসিটিভি বসানো হয়েছে, সে তথ্য পরে প্রকাশ করা হবে।