
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন যে, শেখ হাসিনার সরকার রাষ্ট্র এবং গণতন্ত্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে। তিনি বলেছেন, “কোনো প্রতিষ্ঠানই আর অক্ষত নেই। এই যে ধ্বংসের স্তূপ, এখান থেকে দেশকে নতুন করে গড়ে তোলা সহজ কাজ নয়। আমি মনে করি, নতুন দেশ গড়ার দায়িত্ব শুধুমাত্র সরকারের একার নয়, সব রাজনৈতিক দল মিলে দেশকে গড়ে তুলতে হবে।”
আজ রবিবার (১৬ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
উক্ত ইফতার মাহফিলে বিএনপির মহাসচিবের পাশাপাশি বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কবি আব্দুল হাই শিকদার, বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহিন, মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, ডিইউজের সভাপতি শহীদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম এবং এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে এটুকু বলতে পারি ‘উই আর কমিটেড টু রিফর্ম’। অর্থাৎ সংস্কারের ব্যাপারে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিএনপি দুই বছর আগে রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে। সেই সংস্কারগুলোর সঙ্গে আজকের যে প্রস্তাব উঠে আসছে, তাতে খুব বেশি পার্থক্য নেই। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত যত দ্রুত সম্ভব একটি নির্বাচন দেওয়া এবং নির্বাচিত সরকারের হাতে রাষ্ট্র ক্ষমতা তুলে দিয়ে দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা করা।”
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “পত্রিকার পাতা খুললেই আমরা আজ বিচলিত হয়ে যাই। হত্যা, খুন, ধর্ষণ এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে যে এটি আমাদের পীড়িত করছে। অন্যদিকে আমাদের তরুণ প্রজন্ম বিশেষ করে ছাত্ররা অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে। আবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে রাস্তায় নেমে আসছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা এখন আন্তরিকভাবে চাচ্ছি, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. ইউনূস অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো করে দ্রুত জাতীয় নির্বাচনের দিকে যাবেন। কারণ অতীত অভিজ্ঞতা থেকে আমরা দেখেছি, নির্বাচন যত দেরি হয়েছে, বাংলাদেশের পক্ষের শক্তিকে পরাজিত করার জন্য ফ্যাসিস্ট শক্তি মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। যারা উগ্র, জঙ্গি, তারাও এই সুযোগগুলো নেওয়ার চেষ্টা করছে।”
মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা মনে করি, যত দ্রুত নির্বাচন হবে, যত দ্রুত জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদে এসে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবে, ততই মঙ্গল। অন্যদিকে, অত্যন্ত প্রয়োজনীয় যে সংস্কারগুলো আছে, সেগুলো আমরা সবাই এক সঙ্গে করতে পারবো।”
তিনি বলেন, “আমরা ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারকে পরাজিত করে একটি নতুন স্বাধীনতা পেয়েছি। এখন আমাদের প্রয়োজন নিজেদের ঐক্য আরও সুসংহত করা।”