
ডেস্ক রিপোর্ট
ফিলিস্তিনে চলমান সংঘাত ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ফেসবুক নানা ধরনের বাধা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো ও গণমাধ্যম কর্মীদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি নিয়মিতভাবে ফিলিস্তিনপন্থী কনটেন্ট সেন্সর করছে এবং সাংবাদিকদের পোস্ট সীমিত করে দিচ্ছে।
সম্প্রতি বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক এবং স্বাধীন সংবাদমাধ্যম অভিযোগ করেছে যে, তাদের পোস্ট ও ভিডিও বিভিন্নভাবে ব্লক বা সীমিত করা হচ্ছে। অনেকে দাবি করছেন, ফেসবুক তাদের অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে অথবা পোস্টের দৃশ্যমানতা কমিয়ে দিয়েছে।
সেন্সরশিপের ধরন
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেসবুকের মালিকানাধীন মেটা (Meta) ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তিনিদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করছে। বিশেষ করে গাজা ও পশ্চিম তীরের মানবিক সংকট সম্পর্কিত তথ্য ছড়িয়ে পড়া রোধ করা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের অভিযোগ, তারা যখন ইসরাইলি হামলা, বেসামরিক হতাহতের ঘটনা, কিংবা মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত খবর পোস্ট করেন, তখন ফেসবুক পোস্টগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরিয়ে নেয় অথবা ‘কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড’ লঙ্ঘনের অভিযোগে সীমিত করে দেয়।
ফিলিস্তিনি অ্যাক্টিভিস্টদের মধ্যে অনেকেই জানিয়েছেন, “ফেসবুক ফিলিস্তিন সম্পর্কিত সত্য ঘটনাগুলোকে বিশ্ববাসীর সামনে আসতে দিচ্ছে না। এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ।”
মেটার অবস্থান
এই অভিযোগের বিষয়ে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা জানিয়েছে, তারা কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে এবং সহিংসতা উসকে দেওয়ার মতো পোস্টগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। তবে সমালোচকদের মতে, ফেসবুকের এই নীতিমালা পক্ষপাতদুষ্ট এবং ফিলিস্তিনপন্থী কনটেন্টের ওপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মেটার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনপন্থী কনটেন্ট সেন্সর করার অভিযোগ বারবার উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফেসবুকের এমন পদক্ষেপ তথ্য প্রবাহ ও স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, “ফিলিস্তিনিদের কণ্ঠ রোধ করা এক ধরনের তথ্য যুদ্ধের অংশ, যা সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে।”
বিশ্লেষকদের মতে, ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে স্বাধীন মতপ্রকাশ ও সংবাদ পরিবেশনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হলে আরও স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষ নীতিমালার প্রয়োজন।