
নিজস্ব প্রতিবেদক
নরসিংদীতে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উদ্ধার করা ৯৬ কেজি গাঁজা বিক্রির অভিযোগ উঠেছে জেলা গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক (ওসি, ডিবি) এস এম কামরুজ্জামান ও কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক খন্দকার জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার সকালে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে নরসিংদী পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করেন পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হান্নান। পরবর্তীতে দুপুরে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি একেএম আওলাদ হোসেনের নির্দেশে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে ঢাকায় বদলি করা হয়।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নথি থেকে জানা যায়, গত ৪ ফেব্রুয়ারি শিবপুর উপজেলার সৃষ্টিগড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬টি প্লাস্টিকের বড় বস্তায় মোট ৯৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে জেলা গোয়েন্দা বিভাগ। তবে নরসিংদী সদর পুলিশ কোর্টের মালখানার কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) মো. শামীনুর রহমান জানান, এই গাঁজা আদালতের মালখানায় জমা দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও জানান, পূর্বে ডিবি কর্তৃক উদ্ধারকৃত ১২০ কেজি গাঁজা ও ১৩০ বোতল ফেনসিডিলও মালখানায় জমা দেওয়া হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে সদ্য বিদায়ী ডিবি পরিদর্শক এস এম কামরুজ্জামান বলেন, “আমাদের কর্মকর্তা আলামত জব্দ করে ধ্বংসের তালিকা কোর্টে পাঠিয়েছেন এবং কোর্টের হাকিম তা গ্রহণ করেছেন। কোর্ট পরে ধ্বংস করেছে কি না, তা কোর্টের বিষয়। এখানে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।”
এদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ৯৬ কেজি গাঁজা মাধবদী থানার আলগী এলাকার মাদক ব্যবসায়ী মায়া প্রধানের কাছে ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫ কেজি গাঁজা মায়ার বাসায় ডিবির গাড়িতে সরবরাহ করা হয় এবং অবশিষ্ট গাঁজা ডিবির ওসি কামরুজ্জামানের হেফাজতে রাখা হয়। আদালতের মালখানায় কোনো গাঁজা পাঠানো হয়নি।
এ বিষয়ে নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হান্নান জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কলিমুল্লাহকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।