
ডেস্ক রিপোর্ট
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঢাকা মহানগরীতে বাসাবাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও বিপণিবিতানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বুধবার (১৯ মার্চ) ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঈদুল ফিতর উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে এবং বাসাবাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও বিপণিবিতানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এ উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যে ‘অক্সিলারি পুলিশ’ নিয়োগ করা হয়েছে, যারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ডিএমপি মনে করে, পুলিশের গৃহীত পদক্ষেপের পাশাপাশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও অপরাধ দমন আরও সফল হবে।
ডিএমপির পক্ষ থেকে নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি নগরবাসীকে কিছু নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্দেশনাগুলো হলো:
১. বাসাবাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, ব্যাংক-বিমা ও বিপণিবিতানের নিরাপত্তারক্ষীদের ডিউটি জোরদার করতে হবে। অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে ২৪ ঘণ্টা নজরদারির ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রতিষ্ঠানের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে একসঙ্গে ছুটি না দিয়ে পর্যায়ক্রমে ছুটি প্রদান করা যেতে পারে।
২. বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠান ত্যাগের আগে দরজা-জানালা সঠিকভাবে তালাবদ্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে একাধিক তালা ব্যবহার করা যেতে পারে। দুর্বল দরজা-জানালা মেরামত করে সুরক্ষিত করতে হবে।
৩. বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত সংখ্যক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে এবং সেগুলো সচল রাখতে হবে।
৪. বাসাবাড়ির মূল দরজায় অটোলক ও নিরাপত্তা অ্যালার্মযুক্ত তালা ব্যবহার করা যেতে পারে।
৫. রাতে বাসা ও প্রতিষ্ঠানের চারপাশ পর্যাপ্ত আলোকিত রাখতে হবে।
৬. অর্থ, মূল্যবান সামগ্রী ও দলিলপত্র নিরাপদ স্থানে বা নিকটাত্মীয়ের হেফাজতে রাখতে হবে। প্রয়োজনে ব্যাংক লকার ব্যবহার করা যেতে পারে।
৭. বাসাবাড়ি ত্যাগের আগে প্রতিবেশী ও পাশের ফ্ল্যাটের অধিবাসীদের বাসার প্রতি লক্ষ রাখতে অনুরোধ করতে হবে এবং তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে।
৮. ভাড়াটেদের আগেই বাসার মালিককে ঈদ উপলক্ষে বাসা ত্যাগের বিষয়টি জানাতে হবে।
৯. অনুমতি ছাড়া কেউ যেন বাসা বা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে নিরাপত্তাকর্মীকে সতর্ক করতে হবে।
১০. বাসাবাড়ি বা প্রতিষ্ঠান ত্যাগের আগে লাইট, ফ্যান, পানির ট্যাপ, গ্যাসের চুলা ইত্যাদি বন্ধ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।
১১. বাসা বা প্রতিষ্ঠানের গাড়ির গ্যারেজ সুরক্ষিত রাখতে হবে।
১২. বাসার জানালা ও দরজার পাশে থাকা গাছের অবাঞ্ছিত শাখা-প্রশাখা কেটে ফেলতে হবে, যাতে অপরাধীরা সেগুলো ব্যবহার করে বাসায় প্রবেশ করতে না পারে।
১৩. মহল্লা বা বাড়ির সামনে সন্দেহজনক ব্যক্তিকে ঘোরাফেরা করতে দেখলে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ি ও থানাকে অবহিত করতে হবে।
১৪. ঈদে মহল্লা বা বাসায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে বা ঘটার আশঙ্কা থাকলে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ি ও থানাকে জানাতে হবে।
জরুরি প্রয়োজনে পুলিশি সহায়তার জন্য ডিএমপি কন্ট্রোল রুমের নম্বর দেওয়া হয়েছে: ০১৩২০-০৩৭৮৪৫; ০১৩২০-০৩৭৮৪৬; ২২৩৩৮১১৮৮; ০২৪৭১১৯৯৯৮; ০২৯৬১৯৯৯৯।
ডিএমপি আশা প্রকাশ করেছে, নগরবাসীর সচেতনতা ও সহযোগিতায় ঈদুল ফিতর উৎসব নিরাপদ ও আনন্দময় হবে।