
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানানোয় তুরস্কের একটি শহরের মেয়রকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় নেমে আসেন এবং সরকারের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানান।
তুরস্কের নিরাপত্তা বাহিনী মঙ্গলবার রাজধানী আঙ্কারা থেকে ওই মেয়রকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে জনশৃঙ্খলা বিনষ্ট এবং সরকারবিরোধী কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে সমর্থকরা বলছেন, তিনি কেবল ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছিলেন এবং তার গ্রেপ্তার মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ।
ইস্তাম্বুল, আঙ্কারা ও ইজমিরসহ বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। তারা হাতে ফিলিস্তিনি পতাকা বহন করে এবং সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ ঘটনায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
বিক্ষোভ দমনে পুলিশ কড়া অবস্থান নিয়েছে। রাজধানী আঙ্কারার কেন্দ্রস্থলে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।
এদিকে, দেশটির বিরোধী দলগুলো সরকারের এই পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছে। এক বিবৃতিতে প্রধান বিরোধী দল বলেছে, “এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। সরকার ভিন্নমত দমনে দমননীতি অবলম্বন করছে।”
তুরস্ক সরকার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য না করলেও, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থেই এই গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সরকার কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করবে না।”
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে তুরস্কের জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে এবং এই গ্রেপ্তারের ফলে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।