
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার নির্ধারিত সময়েই জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করবে এবং কোনো দাবির প্রেক্ষিতে তা বিলম্বিত হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই, তবে দলটির নেতাদের মধ্যে যারা হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে দেশের আদালতে বিচার প্রক্রিয়া চলবে।
আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের (আইসিজি) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্বে ছিলেন আইসিজি’র প্রেসিডেন্ট ড. কমফোর্ট ইরো। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকার দুটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেছে, যা পরিবর্তন হবে না।
প্রধান উপদেষ্টা জানান,
- রাজনৈতিক দলগুলো যদি সীমিত আকারে সংস্কার চায়, তাহলে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
- বৃহত্তর রাজনৈতিক সংস্কার চাইলে নির্বাচন ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে আয়োজন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের কোনো কারণ আমাদের কাছে নেই।”
তিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের অপরাধে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (হেগ) পাঠানোর বিষয়টি সরকার নাকচ করেনি। বিষয়টি এখনো আলোচনার মধ্যে রয়েছে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টা।
এছাড়া, তিনি জানান, ঐকমত্য কমিশন বৃহস্পতিবার থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছে। “জুলাই সনদ” চূড়ান্ত ও স্বাক্ষর করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা সরকারের ভবিষ্যৎ নীতিকে দিকনির্দেশনা দেবে।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গা বিদ্রোহী নেতা আতাউল্লাহর গ্রেপ্তারের প্রশংসা করেন এবং এটিকে শরণার্থী শিবিরে শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতিশ্রুতি রক্ষার অংশ বলে অভিহিত করেন।
তারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণকারী আরাকান আর্মির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আসন্ন জাতিসংঘের বিশেষ সম্মেলন এই সংকটের প্রতি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ড. কমফোর্ট ইরো বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার সম্পর্কে ভুল তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে তাদের সংস্থা বাংলাদেশকে সমর্থন দেবে।
অধ্যাপক ইউনূস এসময় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দৃঢ় সম্পর্কের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন। তবে, তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “বাংলাদেশ সম্পর্কে ভুল তথ্যের বেশিরভাগই ভারতীয় গণমাধ্যম থেকে আসছে।”